ত্বক ক্যান্সার রোধে টিকা আবিষ্কার!

উজ্জল বিশ্বাস : ত্বক ক্যান্সার রোধে টিকা আবিষ্কারের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইঁদুরের ওপর চালানো এক পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা ত্বক ক্যান্সার রোধে শতভাগ সফলতা পেয়েছেন। এই পরীক্ষা অনুসারে, ত্বক ক্যান্সার ধংসকারী একট পদ্ধতি আবিষ্কারের পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি ক্যান্সারের ফেরত আসা বন্ধ করতেও কার্যকরী হবে এটি।

বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েকটি ওষুধের একটি মিশ্রণ তৈরি করেছে যেটি প্রাণঘাতী মেলোনোমার বিরুদ্ধে কার্যকরী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত ইঁদুরের ওপর চালানো এক গবেষণায় এটি শতভাগ সফলতা দেখিয়েছে।

ইতিমধ্যেই ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে একটি ওষুধ। বিজ্ঞানীরা ওই ওষুধের সঙ্গে এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যোগ করেছে যেটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বাড়িয়ে দেয়।

এই রাসায়নিক পদার্থটি ছাড়া পরীক্ষামূলক ওষুধটি ব্যবহার করলে ১০০ থেকে ৭৫ শতাংশ ইঁদুর ৫৪ দিনের মধ্যেই মারা যায়। কিন্তু রাসায়নিক পদার্থটি যোগ করে ওষুধটি দিলে একটি ইঁদুরও মারা যায়নি। এই মিশ্রণটি দেহের ভেতরে তৈরি হওয়া টিউমরের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং শরীরকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেয় যাতে করে ওই টিউমর আর কখনো ফিরে আসতে না পারে। অনেকতা টিকার মতো।

স্ক্রিপস রিসার্চ ও দ্য ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের একটি দল এই পরীক্ষাটি চালিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ে তাদের প্রতিবেদনটি প্রসেডিংস অফ ন্যাশনাল একাডেমী অফ সাউয়েন্সেস এর সাময়িকীতে প্রকাশ পেয়েছে।

ক্যানসার নিয়ে গবেষণা

বাস্তবিক অর্থে এখন পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায়। ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে। প্রত্যেক ক্যান্সারই আলাদা আলাদা এবং এদের চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা। বর্তমানে ক্যান্সার নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে এবং এ সম্পর্কে নতুন নতুন অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ক্যান্সারে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পড়ে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোন চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না।

তার আগে জানতে হবে ক্যানসার কি

 বিশ্বের সমস্ত প্রাণির শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পর মারা যায়। এই পুরনো কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ এসে জায়গা করে নেয়। সাধারনভাবে বলতে গেলে যখন এই কোষগুলো কোনও কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই টিউমার বলে। এই টিউমার বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই ক্যান্সার বলে। আবার অন্যভাবে বলা যায়, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভাজনক্ষম হয়ে বৃদ্ধি পাওয়া কলাকে নিওপ্লাসিয়া (টিউমার) বলে, এবং সেরকম ক্রিয়া যুক্ত কোষকে নিওপ্লাস্টিক কোষ বলে। নিওপ্লাস্টিক কোষ আশেপাশের কলাকে ভেদ করতে না পারলে তাকে বলে নিরীহ বা বিনাইন টিউমার। বিনাইন টিউমর ক্যান্সার নয়। নিওপ্লাসিয়া কলা ভেদক ক্ষমতা সম্পন্ন হলে তাকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যান্সার বলে।

লেখক : উজ্জল বিশ্বাস

সহ-সম্পাদক, দৈনিক ইত্তেফাক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: