শিক্ষকের আত্মজিজ্ঞাসা

উজ্জল কুমার বিশ্বাসঃ আভিধানিক অর্থে যিনি শেখান তিনিই শিক্ষক। মানুষের সাধারন ধারনা হলো যিনি বিদ্যালয়ে পড়ান তিনিই শিক্ষক। একজন শিক্ষকের বিভিন্ন বিষয়ে যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। তাকে আচরনে, পোশাক পরিচ্ছদে আবেগ-অনুভূতি প্রকাশে সর্বদা সতর্ক থাকেত হয়। কারন শুধু শিক্ষার্থীই নয়, সমাজের অনেকেই তাকে অনুসরন করেন।Teacher

              ইদানিং কিছু শ্রদ্ধেয় শিক্ষক বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এবং ক্ষেত্র বিশেষ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্নভাবে প্রচার করছেন  যে তাদের কী করা উচিত/কি করা উচিত নয়? শিক্ষকের আত্মজিজ্ঞাসা শিরোনামে পোস্টার আকারেও উন্মুক্ত করা হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পূর্বে যেমন শিখণফল বলা হয় না, তেমনি শিক্ষকের কী করণীয় বা কি করা উচিত নয় তা উন্মুক্ত করাও মর্যাদাকর নয়। এগুলো মনে ধারন করার বিষয়। পাঠ্যবই ছাড়াও শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে দেখে, অনুকরন করে, অনুসরন করেও শিখবে, কী করা উচিত, কী করা উচিত নয়।

      নীতি নির্ধারকদের সাথে ইদানিং কিছু শিক্ষকও বলে থাকেন শিক্ষকের ডিজিটাল হাজিরার কথা (অনেক জায়গা চালু হয়েছে) । এ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে যৌক্তিকতা থাকলেও শিক্ষকদের জন্য মোটেও মর্যাদাকর নয়। শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্বই হচ্ছে যথাসময়ে বিদ্যালয়ে হাজির থাকা এবং তিনি থাকবেনও । তাহলে তার জন্য ডিজিটাল হাজিরার প্রয়োজন নেই। দেরিতে বিদ্যালয়ে আসলে তার বেতন কর্তন হতে পারে এই ভয়ে যদি তাকে স্কুলে আসতে হয় তাহলে তিনি কিভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিবেন? মর্যাদার এই আসনে প্রত্যেকেরই অভ্যাসগত ইতিবাচক পরিবর্তন দরকার। এমন সিস্টেমও প্রয়োজন যেখানে কেউ (শিক্ষক, কর্মকর্তা) এটা পেলাম না, ওটা পেলাম না ইত্যাদির জন্য আন্দোলন না করে শুধুমাত্র মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করবেন এবং কর্তৃপক্ষও প্রত্যেকের ন্যায্য চাহিদা পুরণ করবেন।

Digital pass Card
Digital Access System

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: