হিটলারের পরিচয়

Hitler
Hitler

নাৎসি দলের নেতা ও তৃতীয় জার্মান রাষ্ট্রের চ্যান্সলরে এডলপ হিটলার ১৮৮৯ সালের ২০ এপ্রিল অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউডে দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন অস্ট্রিয়ার শুল্ক বিভাগের একজন সাধারণ কর্মচারী। এজন্য হিটলারের পরিবারে অর্থিক সচ্ছলতা না থাকার কারণে পড়ালেখায় বেশি এগোতে পারেননি। প্রথম জীবনে হিটলার ভিয়েনা যান ভাস্কর শিল্পের শিক্ষা লাভের জন্য কিন্তু দুর্ভাগ্যবসত ভর্তি  হওয়ার সুযোগ থেকে ছিটকে পরেন।

এরপর ১৯০৭ সালে হিটলার ভিয়েনার একাডেমি অব ফাইন আর্টস এ ভর্তি হন। কিন্তু কোনো ডিগ্রি অর্জন করতে পারেননি।তিনি ভিয়েনা অবস্থান কালীন সময়ে ইহুদি ও সাম্যবাদী বিরোধী হয়ে ওঠেন ও আন্দোলন এ প্রবেশ করেন।সেখানে তিনি অন্ত্যন্ত কষ্ট করে জীবনযাপন করেন। এরপর ১৯১৩ সালে হিটলার ভিয়েনা ছেড়ে মিউনিখে আসেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকারীন সময়ে তাঁর বয়স ছিলো ২৩ বছর এবং তিনি এ বিশ্বযুদ্ধে ব্যাভিরিয়ায় সৈনিক রুপে যোগদান করে তিনি বীরত্বের প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।হিটলার এর বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তার দ্রুত পদোন্নতি হয়। এবং তার সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে আয়রন ক্রস প্রদান করা হয়। এর পর তিাকে ল্যান্স করপোরাল পদে দ্রুত পদোন্নতি দেয়া হয়। এভাবে একেএকে ৬ বছর সৈনিক জীবন কালে তিনি বিশেষ বীরত্ব প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়া মাত্রই তিনি আবারও মিউনিখে ফিরে আসেন এ সময়ে হিটরারের মনে ব্যাপক ক্ষােভের জন্ম নেয়। তার সামনে জার্মানির পরাজয় ও ভার্সাই সন্ধির বিভিন্ন শৃঙ্খল ভঙ্গের ঘটনা তাকে আরও বেশি দেশপ্রেমী করে তোলে। ফলে তিনি ধীরে ধীরে জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করতে শুরু করেন।

যদিও বলা যায় হিটলার জন্মসুত্রে কোন রাজ পরিবারে তাঁর জন্ম না তবুও তিনি স্বীয় মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ উপস্থাপন করে সামান্য সৈনিক অবস্থা থেকে জার্মানির রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হন। এবং জার্মানিতে সবদিক থেকে উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালায়।

নাৎসি দলের নেতা হিটলার ছিলেন রূঢ় ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির লোক। হিটলার জার্মানির ক্ষমতা গ্রহণের পর জার্মানিকে শক্তিশালী করার জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। জার্মানির সাম্রাজ্য বৃদ্ধি, সামাজিক দিক থেকে শক্তিশালীকরণ, জার্মানির সীমানা সম্প্রসারণ, জার্মানির একত্রীকরণ, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন এগুলো ছিলো হিটলারের উদ্দেশ্য। হিটলার তার Anschluss এ নীতিকে বাস্তবায়ন করেন। এবং এ নীতির দ্বারা নিজ জন্মভূমি অস্ট্রিয়াকে জার্মানির সাথে একত্রিত করেন। এরপর হিটলার ১৯৩৯ সালে জার্মান সীমান্তে গোলযোগ সৃষ্টির অভিযোগে সমগ্র চেকোশ্লোভাকিয়া দখল করেন। এভাবে হিটলার একের পর এক রাজ্য দখল করে জার্মান সীমানা বৃদ্ধি করেন। তবে Anschluss নীতির ফলেই বিশ্বে আবার অশান্তি সিৃষ্টি হয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সুগম হয়।তাই একথা স্পষ্ট ভাবে বলা যায় যে, হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হবার জন্য অনেকাংশেই দায়ী।Bundesarchiv_Bild_183-2004-0628-500,_München,_Haus_der_deutschen_Kunst,_Hitler

হিটলারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ঃ Mein Kamp

1 thought on “হিটলারের পরিচয়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: