“শিক্ষাগুরুর মর্যাদা”

উজ্জল কুমার বিশ্বাসঃ কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করানো হয়েছিল যা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে জানা যায়। যদিও আজকাল শুধু নারায়নগঞ্জেই না, সারা দেশেই তরুণদের হাতেও শিক্ষাগুরুর অমর্যাদা বেশি হচ্ছে। হরহামেশাই শোনা যায়, ‘শিক্ষককে পেটাল ছাত্ররা; ‘ছাত্রের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত’ ‘শিক্ষককে চড় মারল ছাত্র’ ইত্যাদি।

সুন্দর হাতের লেখার জন্য আজই কিনুন

একটা সময় ছিল যখন শিক্ষার্থী মাথা নত করত বা ভয় পেত শিক্ষক দেখে। পারিবারিক শিক্ষা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিশু নৈতিক শিক্ষায়ও শিক্ষিত হতো। কিন্তু আজ অনেক তরুন শিক্ষার্থীদের সামনে বেশিরভাগ সময়ই শিক্ষকের মাথা নিচু থাকে বা তিনি ভয়ে থাকেন কখন না জানি তাকে অসম্মানিত হতে হয়। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শিষ্টাচারবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও অনেক শিক্ষক এবং অভিভাবক মনে করেন যে, শিক্ষার্থীকে শিক্ষকের শাসন করার ক্ষমতা না থাকাই এর কারন।

 

 

সূর্যের তাপ থেকে রক্ষায় কার্যকরী

দোষ কাদের? বুঝে হোক না বুঝে হোক, শিক্ষাগুরুর প্রতি মর্যাদাটুকুও কী আমরাই ছেঁটে ফেলেছি? একসময় পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছিল কাজী কাদের নেওয়াজের ‘শিক্ষা গুরুর মর্যাদা’ নামক কবিতাটি। যে কবিতা আমাদের উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে শিক্ষকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের আদব কেমন হওয়া উচিত।  এই কবিতা আমাদের শিখিয়েছে, পানি ঢেলে দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং নিজ হাতে শিক্ষকের পা ধুয়ে দেওয়া উচিত। এই কবিতায় না আছে কোনো রাজনীতি, না আছে ধর্মীয় উগ্রবাদ।

 

শিক্ষাগুরুর মর্যাদা ছাড়াও “উত্তম ও অধম”, “প্রার্থনা”, “কাজের লোক”, “আমার পণ”, “সবার সুখে”, “সংকল্প”, “কে?, “সুখ”, “আদর্শ ছেলে”, “আজিকার শিশু”, “এমন যদি হতো”, “উপদেশ”, “চাষী”, “তুলনা”, “পাছে লোকে কিছু বলে”, “মা”, “পারিবনা”, “মানুষের সেবা”, “স্বর্গ ও নরক”, ইত্যাদি কবিতা সকল স্তরের পাঠ্যবইয়ে গুরুত্ব সহকারে রাখার সময় এসেছে।  আজ সময় এসেছে শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার এই প্রেক্ষাপটে এমন কবিতার সারমর্ম শিক্ষার্থীদের বারবার অনুধাবনের । শিক্ষার্থীর মানসিক পরিবর্তন না করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যারা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত, জ্ঞানী-গুণী, সৎ ও আদর্শবান মানুষ হিসাবে পরিচিত তারা শিক্ষাগুরুর অমর্যাদা করেননি।

তবে একথাও ঠিক যে শিক্ষকদেরও সত্যিকার শিক্ষাগুরু হয়ে ওঠা আবশ্যক। পাঠ্যবই ছাড়াও শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে দেখে, অনুকরন করে, অনুসরন করেও শেখে তার কী করা উচিত, কী করা উচিত নয়। এজন্য শিক্ষককেও  আচরনে, পোশাক পরিচ্ছদে, আবেগ-অনুভূতি প্রকাশে সর্বদা মার্জিত হতে হবে।। কারন শুধু শিক্ষার্থীই নয়, সমাজের অনেকেই তাকে অনুসরন করেন। পরিবারই মুখ্য জায়গা যেখান থেকে শেখাতে হবে কিভাবে শিক্ষাগুরুর প্রতি আদব ও সম্মান দেখাতে হবে। তা না হলে সামাজিক বিপর্যয় অবসম্ভাবী।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: