কোমল পানিয় আমাদের শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর

কোমল পানিয়
কোমল পানিয়

কোমল পানিয় আমাদের শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর

আমরা সবাই জানি, কেমল পানিয় বিশ্বের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পানিয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা এর জনপ্রিয়তা যত বেশি মানব দেহের জন্য ঠিক ততটাই ক্ষতিকর। আজ আমরা জেনে নিবো এই জনপ্রিয় কোমল পানিয় পান করার পর কীভাবে মানব দেহকে ধীরে ধীরে ক্ষতি করছে।

কোমল পানিয় যে ধরনেরই হোক না কেন আর যত ভালো কোম্পানিরই হোক না কেন তা আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সবকিছু জানার পরও কোমল পানিয়র চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। টিভিতে দেখানো চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন এবং আশেপাশের মানুষদের দেখে একজন মানুষের মনে কোমল পানিয় খাওয়ার ইচ্ছে জাগ্রত হয়। বিশেষ করে গরমের দিনে কষ্টের হাত থেকে একটু রেহায় পেতে মানুষ কোমল পানিয় পান করে। কিন্তু কোমল পানিয় এর মধ্যে কার্বনেটেড ওয়াটার, চিনি, ক্ষতিকারক আ্যাসিড, এবং কৃত্রিম রং অধিক পরিমানে পাওয়া যায়। এগুলো আমাদের শরীরে ঠান্ডা করার পরিবর্তে পেটে আ্যসিডের মাত্রা ও বডিতে সুগার লেবেল দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। যে সমস্ত মানুষরা কোমল পানিয় খুব বেশি পান করে তারা নিজেরাও হয়তো জানেনা যে তাদের শরীরে ঘটমান নানা সমস্যার কারণ শুধু মাত্র কোমল পানিয় হতে পারে। এতো কিছু ক্ষতিকারক উপাদান থাকার কারনে এটি পান করার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তার কুপ্রভাব আমাদের শরীরে পড়তে শুরু করে।




তো চলুন জেনে নেয়া যাক কোমল পানিয় পান করার পর আমাদের শরীরে কী কী প্রভাব পরে।

১.         কোমল পানিয় মুখের মধ্যে তার কাজ শুরু করে দেয়। এর মধ্যে থাকা ফসফরিক অ্যাসিড আমাদের মুখকে অ্যাসিডিক করে দেয় এর ফলে দাঁতের আউটার লেয়ারের এনামেল পাতলা হয়ে যায় এবং টুথক্যাবিটির সম্ভাবনা বেরে যায়।

২.         কোমল পানিয় পান করা চিনি খাওয়ার সমান। কারণ ৩০০ এম এল একটি বোতলে ৩০-৩৫ গ্রাম চিনি থাকে। এজন্য যখনই আমরা কোল ড্রিংস পান করি তখন ৮ চামচ চিনি খেয়ে ফেলি যেটা আমাদের শরীরে গ্লুকোজ এর মাত্রা এতোটাই বাড়িয়ে দেয় যে যতটা আমাদের সারাদিনে প্রয়োজন হয়। সাধারণত আমরা এবারে এতো মিষ্টি খেতে পারিনা। কারণ বেশির ভাগ মানুষদের মিষ্টি খাওয়ার পর পেট ভরে গেছে এমনটা মনে হয় আর যদি এবারে এতো চিনি শরীরের মধ্যে চলে যায় তাহলে এর জন্য আমাদের শরীরে অসস্থি হওয়ার কথা এবং সেই সাথে বমি ভাব হওয়ার কথা। কিন্তু কোল ড্রিংসে এতো চিনি হওয়া সত্ত্বেও আমরা ওই সব অনুভব করতে পারিনা। কারণ কোল ড্রিংসের মধ্যে অধিক মাত্রায় ফসফরিক অ্যাসিড মেশানো থাকে যেটা এর মিষ্টতাকে কম করার কাজ করে।

৩.        কোমল পানয়ি পান কারার ২০ মনিটি পর আমাদরে শরীররে সুগার লভেলে বাড়তে থাকে যটোকে নয়িন্তন করার জন্য আমাদরে শরীরে ইনসিুলনিরে প্রভাবও বড়েে যায়। একসাথে চলতে থাকা এই প্রক্রয়িাকে আমাদরে লভিার সঠকিভাবে পরচিালনা করনতে পারনো। আর সুগাররে মাত্রা অধকি হওয়া করণেে ওই সুগার(ফ্যাট) বা চর্বিতে রুপান্তর করতে থাকে।

৪.         কোল ড্রিংক এর মধ্যে চা, কফি এবং সিগারেটের মতো ক্যাফেইনও পাওয়া যায় যেটা কোল ড্রিংক পান কারার ৪০ মিনিট পর আমাদের শরীরে পুরোপুরি এ্যাবজার্ভ হয়ে যায়। ক্যাফেইন এর কারণে আমাদের আই পিপল বড় হতে থাকে চা এবং কফির মতো এটা পান করলে আমাদের ঘুম পালিয়ে যায়। অলসাতা দূর হতে থাকে আর আমরা আগের তুলনায় এ্যাকটিভ হতে থাকি শরীরে সতেজ ভাব আসে এই সময় আমাদের ব্লাড প্রেসারও বেড়ে যায় যেটা কনট্রোল করার জন্য আমাদের লিভার রক্তে আরো সুগার ছাড়তে থাকে এর ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৫.         কোল ড্রিংক পান করার প্রায় ৫০ মিনিট পর আমাদের শরীরে খুশি প্রদানকারী ক্যামিকেল ডোপামিনের পরিমান বাড়তে থাকে। যার ফলে আমাদের ফিলিংস ভালো হয় এবং খুশি অনুভূত হয়। এটা ঠিক ওই রকম যেমন টা কোন নেশা করার পর আমাদের খুশি খুশি ভাব চলে আসে এবং আমাদের ভাবনায় পরিবর্তন চলে আসে আর এই অনুবূতির কারণে আমাদের ব্রেন বারবার কোল ড্রিংক পান কারতে বাধ্য করে। আর ধীরে ধীরে কোল ড্রিংক পান করাটা আমাদের অভ্যাসে পরিনত হয়।

৬.        কোল ড্রিংক  পান করার ৬০ মিনিট পর এর মধ্যে থাকা ফসফরিক অ্যাসিড তার কার্যকারিতা দেখাতে শুরু করেন আর শরীরের মধ্যে জমে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক এর মতো খনিজ গুলোকে ক্ষুদ্রান্ত্রে পাঠাতে শুরু করে যে কারণে কোল ড্রিংক পান করার ৬০ মিনিট পর আমাদের ইউরিন ত্যাগ করতে যেতেই হয় এই ভাবে আমাদের শরীরে যতটুকু জল আগে থেকে থাকে আর যতটুকু জল কোল ড্রিংক যায় সবজল একসাথে বেরিয়ে যায়। কোল ড্রিংসে ফসফরিক অ্যাসিড ও ক্যাফেইন এর মাত্রা অধিক হওয়ার কারনে আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক এর মতো খনিজ গুলো কমতে থাকে এর ফলে আমাদের শরারের হাড় ও মাংশপেশি কমজোড়ি হয়ে যায়।

৭.         কোল ড্রিংক খাওয়া ১-১.৫ ঘন্টা পর আমাদের শরীরে ক্লান্ত ভাব অনুভব করি এবং শরীর থেকে আনেক জল বেড়িয়ে যাওয়ায় আমাদের শরীর ডি-হাইড্রেটেড হয়ে যায়। তাহলে এখানে দুঃখজনক আজব ব্যাপারটা হলো আমরা তৃষ্ণা মেটানোর জন্য যে পানিয় পান করছি সেটাই আমাদের শরীরকে শুকিয়ে দিচ্ছে।

আরেকটা বিষয় আমাদের অবশ্যই জেনে রাখা দরকার কোল ড্রিংস বানাতে কোন রকম প্রাকৃতিক ফল ব্যাহার করা হয়না। এ জন্য উপকারের নীরিখে যদি দেখা হয় তবে বলা যায় এর মধ্যে এমন কিছু নেই যেটা আমাদের শরীরের জন্য ভালো। দাঁত এবং হাড় কমজোড়ি হওয়া, ডায়াবেটিস, পেটে আলসার অ্যাসিডিটির সাথে সাথে ফ্যাটিলিভার ও হার্ট এ্যাটার্ক এর মতো সমস্যা কোল ড্রিংস বেশি মাত্রায় পান করার জন্য হতে পারে। তা সত্ত্বেও যারা সখের বসবর্তি হয়ে এই কোমল পানিয় পান করে আবার আনেকেরই এটা পান করা অভ্যাসে পরিনত হয়েছে।



Read More; শিশুদের চা পান কতটা নিরাপদ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: