আপনার সন্তানকে কেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াবেন?

শিক্ষালাভের সুযোগ কারোও দয়া নয়, এটা প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আর সুশিক্ষিত হওয়াটা প্রত্যেকের কাম্য। কিন্তু কোথায় পাবেন সেই সুশিক্ষা নেওয়ার প্রতিষ্ঠান? আজকাল সকল ক্ষেত্রেই মানুষ ব্যবসায়ী হয়ে গেছে। মানব সেবার নামে চালিত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই মূল লক্ষ্য বা টার্গেট হচ্ছে ব্যবসা। আর এক্ষেত্রে শিক্ষা খাত মোটেও পিছিয়ে নেই । বরং শিক্ষা খাতের ব্যবসা বর্তমানে জমজমাট এবং লাভবান। প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত এই ব্যবসা।

নিখুত ছবির জন্য আজই কিনুন

বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষনায় সরকারি হয় ৩৭৬৭২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তারই সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ১-১-২০১৩ সালে ঘোষনায় সরকারি হয় প্রায় ২৬০০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় । এরপরেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার কর্তৃক বিভিন্ন ধাপে ধাপে প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরন করেছে।  সব মিলে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬৫০০০ এর উপরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

অপরুপ সৌন্দয্যের জন্য

এতসব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালেয় থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বিভিন্ন আনাচে কানাচে ব্যঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে প্রায় ৫০০০০ কেজি স্কুল যাদের অধিকাংশেরই নিজস্ব জায়গা বা ভবন নেই। শিশুদের খেলাধুলার জন্য কোন মাঠ নেই। ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তার পার্শ্বে মাছ বাজারের কাছে, হাট বা জনাকীর্ন স্থানে গড়ে উঠেছে এই সমস্ত কেজি স্কুলগুলো। সেখানে সত্যিকার অর্থে সুন্দর পরিবেশে কোমলমতি শিশুদেরকে পাঠদানের মাধ্যমে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর পরিবেশ অনুপস্থিত। তাই সকল অভিভাবকদের উচিত আপনার শিশুকে সত্যিকারের নৈতিকতাবোধ সম্পর্কিত সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে কেজি স্কুল নয়,পড়াবেন সরকারি স্কুলে। কেন আপনার শিশুকে কেজি স্কুলে নয়,পড়াবেন সরকারি স্কুলে, তার কয়েকটি কারন নীচে উল্লেখ করা হলোঃ-

১) প্রায় সকল মানুষেরই ইচ্ছা এবং চেস্টা থাকে একটা সরকারি চাকুরী করার। এক্ষেত্রে মেধাবীরাই সেই সরকারি চাকুরীটা পায়। আর অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা সোনার হরিণ নামক সরকারি চাকুরীটা হাতছাড়া করে। তাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন তুলনামূলক অন্যান্য স্কুলের শিক্ষকদের চেয়ে অনেকটাই মেধাবী। তাই আপনার সন্তানকে মেধাবী শিক্ষকের নিকটেই যদি পড়াতে চান, তাহলে অন্য কোথাও নয়, পড়াবেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

২) বেসরকারী স্কুলে মাত্রাতিরিক্ত বইয়ের চাপ থাকে,যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই।

৩) বেসরকারী স্কুলে মাসিক বেতন দিতে হয়,কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাসিক বেতন দিতে হয়না।

৪) বেসরকারী স্কুলের শিক্ষকগন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন,কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগন দেশে এমনকি বিদেশেও প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন।

৫) বেসরকারী স্কুলের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পায়না, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০০% শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পায়।

৬) বেসরকারী স্কুলের অনেকগুলো বই কিনতে হয়,সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন বই কিনতে হয়না।

৭)বেসরকারী স্কুলের শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ খুবই কম, যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আছে।

৮) বেসরকারী স্কুলে পাঠটীকা এবং বাস্তব উপরন ব্যবহার করে পাঠদান হয়না,যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হয়।

৯) বেসরকারী স্কুলে খেলাধুলা এবং সাংষ্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ খুবই সীমিত,কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবারিত সুযোগ আছে।

১০) সর্বোপরি অধিকাংশ বেসরকারী স্কুলের নিজস্ব জায়গা এবং ভবন নেই,খেলার মাঠ নেই,সমাবেশ করার মত জায়গা নেই,ভাড়াবাড়িতে আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। পক্ষান্তরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজস্ব জায়গায় সুরম্য অট্রালিকা,বিশাল খেলার মাঠ এবং চমৎকার ওয়াসব্লোক রয়েছে, যা আমাদের অনেকেরই বাড়িতেও নেই।

এতকিছুর পরেও আমাদের দেশের সচেতন এবং বিত্তশালী অধিকাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানকে কেজি স্কুলে পড়াচ্ছেন। এর কারন অনেকেই মনে করেন তার সন্তানের পিছনে কতটাকা খরচ করা হলো এটা জাহির করলে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। তাই আসুন আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থেই নিজ নিজ ছেলে- মেয়েকে বেসরকারী স্কুলে নয় পড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যেখানে শিশুর পরিপূর্ন বিকাশের সুন্দর সুযোগ রয়েছে। আর এজন্য আমাদের সরকারী স্কুলে শিক্ষকসহ ব্যবস্থাপনায় যারা জড়িত তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তনও দরকার।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: