প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অধিক নম্বর পাওয়ার জন্য করনীয়

উজ্জল কুমার বিশ্বাস: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ভর্তি, উপস্থিতি যেমন বেড়েছে তেমনি ঝরে পড়ার হারও কমেছে। তবে মানসম্মত শিক্ষা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। এ লক্ষ্যে দায়িত্বশীল সবাই কাজ করছেন। পরীক্ষায় অধীক নম্বর প্রাপ্তিই শিক্ষার্থীর সাফল্য হিসেবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক সহ অনেকেই মনে করছেন। শিক্ষার্থীর কিছু বিষয়ে অজ্ঞতা বা অসচেতনতার জন্য সে পরীক্ষায় কম নম্বর পাচ্ছে। নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ প্রতিপালন করলে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অধিক নম্বর পেতে পারে!

১। পরীক্ষা কক্ষে শিক্ষার্থীকে ইতিবাচক মনোভাব রাখতে হবে। তার আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে যে সে সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।
২। প্রথমেই প্রশ্নপত্রটি (অভীক্ষাপদ) ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে পড়তে হব। প্রশ্নপত্রে কী উত্তর চাওয়া হয়েছে সেটা ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করতে হবে এবং অবশ্যই নির্দেশনা অনুযায়ী উত্তর লিখতে হবে। অনেক সময় শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রটি পেয়ে সরাসরি উত্তর লিখতে আরম্ভ করে। এতে তার ভুল হয় বেশি এবং নম্বরও কম পায়।
৩। কোন প্রশ্নে ঠিক কতটুকু উত্তর চাওয়া হয়েছে ঠিক ততটুকুই লিখতে হবে। নির্দেশনার বেশি লিখলে সময় নষ্ট হয় কিন্তু বাড়তি কোন নম্বর পাওয়া যায়না। যেমন-প্রশ্ন: চারটি শীতকালীন ফুলের নাম লেখ। নম্বর আছে ৪। এমন প্রশ্নে চারটির বেশি ফুলের সঠিক নাম লিখলেও ৪ এর বেশি কোন নম্বর পাওয়া যাবে না, শুধু সময় নষ্ট হবে।৪। বানান ভুল হচ্ছে বা হতে পারে এই ভয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর লেখা হতে বিরত থাকা যাবে না। কারন বানান ভুল হলেও যদি অর্থের বিকৃতি না হয় তাহলে নম্বর পাবে।
৫। শিক্ষার্থী অনেক সময় বিষয়বস্তু মুখস্ত অনুসারে ভুলে যায় এবং ধারাবাহিকতা হচ্ছে কিনা এই ভয়ে লেখা বন্ধ করে। শিক্ষার্থী তার নিজের ভাষাতেও যদি কোন বিষয়কে বোঝাতে সক্ষম হয় তাহলেও সে পূর্ন নম্বর পাবে।৬। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর লেখার সময় শুধু সঠিক উত্তটিই উত্তরপত্রে লিখলে হবে। বাক্যে লিখলে সময় নষ্ট হয়। যেমন: ঢাকা কোন নদীর তীরে অবস্থিত? উত্তর: “বুড়িগঙ্গা” লিখলেই সে পূর্ণ নম্বর পাবে। “ঢাকা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত”, এভাবে লেখার দরকার নেই।

৭। মিলকরনের জন্য পাঠ্যবইয়ে দেওয়া বিষয়বস্তু ভালোভাবে পড়তে হবে এবং প্রশ্নে দেওয়া নির্দেশনা ( দাগ টেনে, পাশাপাশি লিখে, বা ক্রমিকে মিল করে) অনুযায়ী লিখতে হবে।

৮। সবচেয়ে বেশি নম্বর বন্টন থাকে কাঠামোবদ্ধ প্রশ্নে। এ জাতীয় প্রশ্নে উত্তর কতটুকু লিখতে হবে তা প্রশ্নেই নির্দেশ দেওয়া থাকে। প্রশ্নের একাধিক অংশও থাকে। তাই কোন অংশের উত্তর অজানা থাকলে অন্য অংশের উত্তর লিখলে তার জন্য বন্টিত পূর্ণ নম্বর পাওয়া যাবে।

৯। বিপরীত/সমার্থক শব্দ, এক কথায় প্রকাশ,শূণ্যস্থান, লেখার ক্ষেত্রে সঠিক বানানের শব্দ লিখতে হবে।

১০। দরখাস্ত/চিঠির ক্ষেত্রে প্রতিটি অংশের জন্য আলাদা নম্বর আছে। এজন্য কোন অংশ অজানা থাকলে অন্যান্য অংশ লিখতে হবে। যেমন: তারিখ ও ঠিকানা; সম্বোধন(জনাব/মহোদয়); মুল অংশে – দরখাস্তের কারন, স্বপক্ষে যুক্তি; বিদায় নেওয়া; স্বাক্ষর প্রতিটির জন্য নম্বর বিভাজন করা আছে।

১১। গাণিতিক সমস্যার সমাধানে চারটি ধাপ/পর্যায় আসতে পারে। অথ্যাৎ যোগ ,বিয়োগ, গুণ ও ভাগ প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধান করতে হতে পারে। তাই শিক্ষার্থী যে প্রক্রিয়া পারবে সেটুকুই সম্পন্ন করবে। এতে সে কিছু নম্বর হলেও পাবে। গাণিতিক সূত্রগুলো অধিক অনুশীলন করতে হবে। কারন সূত্র মনে না থাকলে অনেক সময় সে গানিতিক সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

১২। হাতের লেখা ঘষা-মাজা, কাটাকাটির জন্য বিষয়বস্তু পড়তে সমস্যা না হলে সঠিক নম্বর পাবে। তবে যথাসম্ভব কাটাকাটি বা ঘষা-মাজা যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবে। কারন পরিচ্ছন্নতা সবাই পছন্দ করে।

১৩। যেহেতু ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের পরীক্ষা তাই শেষের ১৫ মিনিট উত্তর পত্র যাইয়ের জন্য কাজে লাগানো উচিত। অনেক সময় অজান্তেও কিছু ভুল হয়ে যায় । এজন্য শেষে সময় থাকলে যাচাই করে সেই ভুলগুলো সংশোধন করা যায়।

সর্বপরি পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র দায়িত্বরত শিক্ষকের হাতে পৌছানো নিশ্চিত করে কক্ষ ত্যাগ করতে হবে। উত্তরপত্রের সাথে যাতে অবাঞ্ছিত কোন কাগজপত্র না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: