শিক্ষণীয় গল্প পর্ব-২ঃ চরিত্রহীন একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয়

কলেজের সবাই আজ ফারিয়ার দিকে অদ্ভুত ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে। কেউ কেউ মুখ টিপে হাসছে। নিজেকে আবারও ভালভাবে খেয়াল করে দেখে ফারিয়া।
জামা কাপড়ে তো কোনো সমস্যা নেই! তাহলে সবাই ওকে দেখে এমন হাসাহাসি করছে কেন? কলেজের ওয়াসরুমে ঢুকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে হাস্যকর লাগার কারণ খুঁজে বের করার ব্যর্থ চেষ্টা করে

ওয়াসরুম থেকে বেরোনো মাত্রই ওদের সহপাঠী রনি ওকে জিজ্ঞেস করে, ” কিরে আঙ্কেল তো ভাইরাল হয়ে গেছে গা। তুই কি কিছু জানো?” এই বলে বিশ্রী দাঁতগুলো বের করে খিক খিক করে হেসে চলে যায়।
রনির কথা আর হাসির কোনো অর্থ খুঁজে পায় না ফারিয়া

ক্লাসরুমে ঢোকার সময় খেয়াল করে, সবাই কেমন জানি আড়চোখে তাকিয়ে আছে।
স্পষ্ট শুনতে পায় কে জানি বলে উঠেছে, “সেলিব্রেটির কন্যা এসে গেছে।
ওদের এমন আচরণের মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতে পারেনা ফারিয়া

ক্লাস শেষে ওর বান্ধবী মিলি ওকে ডেকে নিয়ে হাতে মোবাইলটা দিয়ে ফেবুতে লগ ইন করতে বলে ওকে। ফেবুতে লগ ইন করে দেখতে পায়, প্রায় ৩০০ বন্ধু ওকে একটা মেয়ের পোস্টে ট্যাগ দিয়ে রেখেছে।
আর সেই পোস্টে ওর বাবার ছবি আর একটা ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ফারিয়ার বাবা জামান সাহেব, বাসে বসে ফারিয়ার বয়সী এক মেয়েকে উত্যক্ত করছেন আর মেয়েটির শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা করছেন

Sexually Harassing
Sexually Harassing

মেয়েটি কৌশলে তার এই কর্মকান্ডের ছবি আর ভিডিও ধারণ করে ফেবুতে পোস্ট দিয়েছে। যে পোস্ট এখন ভাইরাল হয়ে ফেবুতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পোস্টের নিচে হাজার হাজার কমেন্টে শুধু গালিগালাজ। তাদের মধ্যে ফারিয়ার কলেজের দু চারটা ছেলে আবার ফারিয়াকে মেনশন করেছে।
এসব দেখে ফারিয়ার হাত পা কাঁপছে। রাগে, দুঃখে আর লজ্জায় ওর চোখে পানি চলে এসেছে। চোখের পানি মুছতে মুছতে বাসায় ফিরছে

ফারিয়ার মা নেই৷ অনেক ছোটবেলায় ফারিয়ার মা নিজে বিষ খেয়ে মারা গিয়েছেন। উনি অবশ্য ফারিয়াকেও বিষ খাইয়েছিলেন, তবে আল্লাহর রহমতে ফারিয়া বেঁচে গিয়েছিল। আজ ফারিয়ার খুব খারাপ লাগছে এই ভেবে যে, কেন সেদিন মায়ের সাথে মরে গেলো না? মা হয়তো মরে গিয়ে বেঁচে গিয়েছেন কিন্তু এই লজ্জা আর অপমান নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকবে?

Advertisement

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

ফারিয়ার বাবা জামান সাহেব একটা ফার্মেসির মালিক। বেশ ভাল আয় হয় সেখান থেকে। সবাই বাবার চরিত্র নিয়ে অনেক কথা বলে কিন্তু ফারিয়া সেটা কখনোই বিশ্বাস করেনি। তবে আজ ওর ভুল ভেঙেছে। বাসায় ফিরে দেখতে পায় বাবা কম্বল মুড়ি দিয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন। ফারিয়া নিজেকে সংবরণ করতে না পেরে বাবার গায়ে থুতু নিক্ষেপ করে। তবে বাবা কিছুই টের পায়না৷ অবশ্য ঘৃণিত মানুষগুলো কখনোই তাদের ঘৃণিত হবার কারণটা খোঁজেও না, আর এগুলো নিয়ে ভাবেও না

ফারিয়া ভাবে আমার বাবা যদি আজ অন্য কোনো বাবার মেয়েকে সেক্সুয়ালি হ্যারাস করে দিব্যি আরামে ঘুমাতে পারে, তবে অন্য কোনো মেয়ের বাবাও হয়তো এমনিই আমাকেও হ্যারাস করে আরামে ঘুমাবে।
নাহ বাবাকে শাস্তি পেতেই হবে। ভুক্তভোগী মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করে পার্শ্ববর্তী থানায় ফোন করে সব খুলে বলে। হয়তো আর কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ চলে আসবে আর বাবাকে নিয়ে যাবে

হ্যাঁ, ওইতো পুলিশের গাড়ির সাইরেন শোনা যাচ্ছে!

#নোট_: একজন দুঃশ্চরিত্রের মানুষ কখনোই কারো বাবা, ভাই, স্বামী কিংবা বন্ধু হতে পারেনা। চরিত্রহীন একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয়, সে একজন চরিত্রহীন। কোনো নারী নির্যাতিত হলে আমরা শুধু ফেবুতে ছিঃ ছিঃ করে বেড়াই, প্রতিবাদের ঝড় তুলি, অথচ খেয়াল করলে দেখা যাবে হয়তো আমাদের ঘরের মধ্যেই এমন কোনো দুঃশ্চরিত্রের অপরাধী নিয়মিত এসব অপরাধ করে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে।
তাই প্রতিবাদটা না হয় নিজ ঘর থেকেই শুরু করুন। প্রতি ঘরে যদি ফারিয়ার মত মেয়েরা প্রতিবাদী হতে পারে, তবে জামান সাহেবের মত গুটিকয়েক বিকৃতমনা পুরুষ লেজ গুটিয়ে পালাবে এটা নিশ্চিত থাকুন

লেখকঃ তারিকুল ইসলাম তারিক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: