শিক্ষণীয় গল্প পর্ব- ১ঃ হতাশা জয়ের গল্প

হতাশা জয়ের গল্প
হতাশা জয়ের গল্প

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে হতাশ হয়ে এক ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিল আত্মহত্যা করবে। এই ভেবে সে গভীর রাতে তার ঘরের পাশেই একটা গাছের ডালে দড়ি বেঁধে গলায় ফাঁস দেয়ার পরিকল্পনা করলো। কিন্তু গাছের ডালটি তার দেহের ভার বইতে না পেরে, ভেঙে পড়লো।

ওই ডালে একজোড়া পাখির বাসা ছিল। ডাল ভেঙে যাওয়ায় পাখির বাসাটিও ভেঙে গেল। লোকটি খেয়াল করলো, পাখিটির বাসায় দুটি ডিম ছিল। বাসার সাথে ডিমগুলোও ভেঙে গিয়েছিল। পাখিটি অসহায় ভাবে লোকটির মাথার উপরে উড়ছিল আর চিৎকার করছিল। এটা দেখে তার খুব মায়া হলো।
সে ভাবলো, মরার আগে অন্ততঃ কারো ক্ষতি করে মরবে না। তাই সিদ্ধান্ত নিল যে, ওই গাছে সে নিজে পাখিটির বাসা তৈরি করে দেবে। এর পর যতদিন না পাখিটি ডিম না দেবে, আর সে ডিম থেকে বাচ্চা না ফুটবে, ততদিন সে মরবে না। তাতে তার যতই কষ্ট হোক।

Advertisement

//pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js

পরের দিনই সে গাছে একটি মাটির হাড়ি ঝুলিয়ে দিলো, পাখিটির থাকার জন্য। সেখানে পাখিটি বাসা বাঁধলো। কয়েক মাস পর ডিমও দিল। আর এর কিছুদিন পর ডিম ফুটে বাচ্চা ফুটলো।

লোকটি খেয়াল করলো, প্রতিদিন পাখিটি তার বাচ্চাদের আগলে রাখার জন্য কত প্রতিকূলতার মোকাবিলা করছে! বাচ্চার খাবার জোগাড়ের জন্য কত কষ্ট করছে! কিন্তু হার মানছে না।

লোকটি ভাবলো, সামান্য একটা পাখিও যখন এত প্রতিকূলতায় হার মানছে না। তার উপর বাচ্চাদের নির্ভরশীলতা বুঝতে পেরে সাধ্যমত তাদের জন্য করার চেষ্টা করছে, তাহলে সে একটা মানুষ হয়ে কীভাবে হাল ছেড়ে দিতে পারে? কিভাবে নিজের উপর বর্তানো পারিবারিক দায়িত্ব থেকে পালাতে পারে?

আর এভাবেই সে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা খুঁজে পেলো। আর তার মরে যাওয়ার ইচ্ছেটাও সময়ের পরিক্রমায় মরে গেল।

#নোট_: প্রত্যেকের জীবনেই হতাশা থাকবেই। কিন্তু প্রত্যেকটি হতাশাজনক মুহূর্ত আমাদের নতুন কিছু শিক্ষা দিয়ে যায়। আর প্রকৃত বুদ্ধিমান তারাই, যারা সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিতে পারে।

লেখক ঃ তারিকুল ইসলাম তারিক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: