কেমন বাংলাদেশ চাই!!!

আমার দাদুর  (পিতার পিতা) কথাই বলি যিনি সারা দিন কাজ করতেন আর রাতে বাড়ি এসে  লালনের গান করতেন। আর আমারা সেই নীতি কথার গান শুনতাম  …মন সহজে কি সই হবা দাবের পরে মুগুর পলে……সে দিনে গা  টের পাবা…..তাদের মনে  ছিল না কোন অহংকার বা অন্য কে অবিশাস করার মত নিচু মানসিকতা।

সময় বদলে গেছে।

এখন বাংলাদেশ অনেক পরিবর্তন  হচ্ছে। মানুষ প্লেনে করে  কর্মস্থলে যোগদান করছে। মানুষ তার আর্থিক উন্নতির আশায় সর্বদা ব্যস্ত। কিন্তু মনের মধ্যে কি পরিবর্তন তারা করতে পারছে!

বাংলাদেশের মানুষ  অতীতেতে অনেক প্রান দিয়েছে দেশের জন্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য কস্ট হয়। মানুষ এক সময় না খেয়ে প্রান দিয়েছে। আবার বীরের মত স্বাধীনতা এনেছে।

তবুও সব মানুষ কি স্বাধীনতা এনেছিল? না । সব মানুষ কি আমার দাদুর মত সারা জীবন সততার মধ্যে জীবন কাটিয়েছে?? হয় তো না। কিছু মানুষ সব সময় ই থাকে যারা মনের সততার বিরুদ্ধে নিজেদের কে চলিত করে আর সমাজ যে সেই কিছু মানুষের জন্য আজ এত অবিশ্বাসীদের দেশে পরিনিত হল।

বাংলাদেশে আমরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের রক্ত বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি। আমাদের মধ্যে ইউরপিয়ানদের রক্তই বেশি প্রবাহিত। কিন্তু আজ পৃথিবীর সব থেকে উন্নত আর সভ্য দেশ বলতে ব্রিটিশ আর ইউরপিয়ান দের বলা হয়ে থাকে। সব থেকে দুর্নীতি প্রবন দেশ কাল আফ্রিকানদের কথা না বললেই চলে। সেই উন্নত মানুষের রক্ত আমাদের শরীরে প্রবাহিত হওয়ার পর ও আমরা কেন এখনও উন্নত হতে পারলাম না?  এখন প্রশ্ন হল অতীতের সে সুস্থ, সুখী, ও বীরের বাংগালি আজ কোথায় গেল?

আজ  আমি জাপান এর হানেডা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট এ ১৫ ঘণ্টার যাত্রা বিরতি করছি। মালয়শিয়া  একটি মুসলিম প্রধান দেশ। এখানে ১৫% খ্রিস্টান, ১০% হিন্দু আর বাকি সব মুসলমান। এরা অনেক উন্নত করেছে দেশটাকে। এখানে, সাপ্তাহিক ছুটি শনি আর রবি বার। এরা মুসলিম হয়েও পৃথিবীর উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের উন্নত করে চলেছে।

কিন্তু আজ বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন বসতি পূর্ণ দেশ। মানুষের পদ ভারে বাংলার মাটি অস্থির। সেই বাংগালি আজ  এত দেরিতে কেন উন্নতির ধাপে পা দিল। এর কারন;

  1.  বিদেশিরা বলে, অধিক ধর্মীয় গোঁড়ামি বাংলাদেশ কে উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  2. আমরা মেয়েদের কে ঘরে বন্দি করে রেখেছি আমাদের সম্পদ বলে ওটা কে বাইরে আনা যাবে না, মশা মাছিতে খাবে।
  3. আমরা নিজের কাজ থেকে অন্যের কাজে বেশি মন দেই সে কি করছে, কাজ করছে নাকি ? আর করলে, আমার থেকে উপরে উঠে গেল নাকি?  তবে  তাকে নিচে নামাও।

একটা কথা আছে, অভাবে সভাব নষ্ট। এখন বাংলাদেশে আর কেউ অভাবি নয়। কেউ না খেয়ে প্রান দেবে না। তাই এখান সময় এসেছে পুরণো সততা ফিরিয়ে আনার।

বাংগালী বীরের জাতি এদের কোন দাগ থাকুক এটা কেউ  আমরা চাই না।

আজ হজরত শাহাজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এসে আমি নির্ভয়ে আমার অতি সাধারন ব্যাগটাও রেখে আস্থা পেলাম না।

শেষ কথা;

  1. আসুন মেয়েদের কে আর আপনার মতই মানুষ মনে করি। তারা কোন খেলনা পুতুল বা বস্তু নয় যে তাকে নিয়ে সব সময় খেলা করা যায়। তাদের স্বাধীনতাটা দেই দেশের জন্য।
  2. আপনি ও আপনার সন্তান অপরিচিত কারও জিনিসে হাত দিতে না করুন ও নিজে হাত না দিন।  অপরিচিত কার কোন জিনিসে আমি ও আমার সন্তান্ কে না বলে হাত দিতে দেইনা। আমার সন্তান রা অন্তত কার জিনিসে না বলে হাত দেয় না।
  3. সবার ভাল হোক। গর্বিত বাঙ্গালী আমাদের গর্ব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: