ফেসবুকের ব্যবহারে দাম্পত্য কলহ বাড়ছে

ফেসবুকের ব্যবহারে দাম্পত্য কলহ বাড়ছে

ইন্টারনেট এর এই যুগে পৃথিবী আজ হাতের মুঠোয়। কথা সত্যি। আর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম  গুলো বিশেষকরে ফেসবুক আমাদের পুরনো বন্ধু পেতে অনেক সাহায্য করেছে। এর ব্যবহার নিশ্চয়ই অনেক উপকারে এসেছে। তবে ফেসবুক এর অতি ব্যবহার নিজেদের কে অনেক ক্ষতি স্বাধন করছে। আমরা বুঝতে  ধীরে ধীরে  অনুধাবন করছি। বিশেষ করে ফেসবুক এর ব্যবহারে পরিবারে দাম্পত্য কলহ বাড়ছে অধিক হারে। অনেক ই ফেসবুক এর কারনে যে তাদের দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়েছে, পারস্পারিক  অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে তার অভিযোগ তুলেছেন। এই দাম্পত্য কলহের  হার দক্ষিন এশিয়ায় সব থেকে বেশি। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যেমন আমেরিকা, ইউরোপ , অস্ট্রেলিয়াতে ফেসবুক এর অধিক ব্যবহার থাকলেও। চীন দেশে নিষিদ্ধ। যদিও এই নিষিদ্ধতার জন্য অন্য কোন রাজনৈতিক কারন থাকতে পারে।

ফেসবুক কিভাবে ক্ষতি করছে?

ফেসবুকের মাধ্যমে আমার সব সময় আপডেট খবরা খবর জানতে পারি। বন্ধুরা দের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে পারি। আর নতুন নতুন বন্ধু পেতেও ফেসবুক বিশাল ভুমিকা রাখছে। এর ফলে, দাম্পত্য জীবনে কলহ সৃষ্টি হচ্ছে।

  1. ফেসবুকে আমরা যে সব পোস্ট গুলো দেখি তার বেশিভাগ ই পরিমার্জিত ও সংশোধিত। এর সাথে বাস্তব জীবনের সামান্য মিল রয়েছে। আর ফেসবুকে ঐ পরিমার্জিত ও সংশোধিত  অবাস্তব বিষয় গুলোর সাথে তুলনা করতে গিয়ে আমরা অপরিত্প্ত হচ্ছি  ও দিন শেষে বিষণ্ণটায় ভুগছি।
  2. ফেসবুকে বন্ধুদের মধ্যে  অপেক্ষাকৃত ভাল অবস্থানে থাকা বন্ধুদের সাথে আমরা তুলনা করি। আর নিজের স্বামী বা স্ত্রীর সাথে তুলনা করে ভাবতে থাকি যা কিনা এক সময় চিন্তা, মনন  ও বাস্তেব পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে।
  3. অধিক বিশ্বাসী হয়ে অজান্তেই নিজের সব গোপন বিষয় গুলো প্রকাশ করে বিপদে পড়ছে নারী পুরুষ। এমন প্রমান অনেক রয়েছে।

  4. চাকুরি জীবী পুরুষ বা মেয়েরা বাসায় ফিরে ফেসবুক নিয়ে থাকছে। যেখানে বাসা সন্তান দের সাথে সময় কাটানোর কথা। এতে সন্তান স্বামী বা স্ত্রী দূরে চলে যাচ্ছে এবং পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে।
  5. ফেসবুকে কাল্পনিক মানুষটির সাথে অধিক সুখ কল্পনা করে মানুষ অবুঝের মত আচরন করে নিজের সর্বনাশ দেখে আনছে।

অধিক ফেসবুক ব্যবহার একটি রোগ?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মনোবিজ্ঞানী মেহতাব খানম বলছেন, সোশাল মিডিয়ার কারণে বিশেষ করে পরিবারের ভেতরেও নানা রকমের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এটা ড্রাগের চেয়েও  আসক্তিপূর্ণ ও মারাত্মক।

কিভাবে ফেসবুক এর আসক্তি থেকে রক্ষা পাবে?

ফেসবুকের ব্যবহার গন্ডির মধ্যে বেধে দেয়া সত্যি মুশকিল। তবে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় বাবহার করা উচিত। যেমন রাতে সবাই  যখন একসাথে থাকে। অধিক রাতে স্মার্ট ফোন অফ করে ঘুমাতে যাওয়া উচিত।  ফেসবুক সম্পূর্ণ  বন্ধ থাকবে।  বাসায় ফেসবুক এর বাবহার  সবার সামনে উন্মুক্ত হলে অবিশ্বাস জন্ম নেবে না। নিজেকে কক্ষনও অন্য কার সাথে তুলনা করবে না। কারন  তুলনা কখনই ভাল কিছু দেয় না।

সম্ভব হলে স্মার্ট ফোন থেকে ফেসবুক আপস মাসে অন্তত ৭ দিন  আন ইন্সটল করে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে। ফেসবুকের  থেকে নিজের পরিবার  অনেক বড়।  একবার অবিশ্বাসী হলে পুনরায় বিশ্বাসী হওয়া যায় না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: