পরে বুঝতে পেরেছিলাম জাপানিজরা এমনই

জাপানিজ
File Photo; জাপানিজ

প্রথম  যখন জাপানে এসেছিলাম ২0১৪ সালের সেপ্তেম্বর মাসে ২৩ তারিখ। যদিও মেক্সট স্কলারশিপ নিয়ে এসেছিলাম। আর প্রোগ্রাম অনুসারে, আমাদের বাসায় উঠার দিন ছিল পহেলা আক্টবর থেকে। এই সাত দিন ছিলাম তহকু ইউনিভারসিটির কাওয়াউচি কাম্পাসের পাশে একটা হোটেলে। নাম আরবান কাসেল কাওয়াউচি। ভাড়া প্রতি দিন ২০০০ ইয়েন (১৫০০ টাকা)। নতুন জীবন। সব কিছু রঙ্গিন মনে হত। সব কিছু ঘুরে ঘুরে দেখতে মন চাইত। জাপানের সব কিছু সুন্দর লাগত। বিশেষ করে মানুষের বাবহার অমাইক। আমি ছিলাম একেবারেই এচেনা মানুষ। জাপানীরা ইংলিশ ভাল বলতে পারে না। তবে যারা পারে ইংলিশ উচ্চারন সুন্দর। আমাদের মত ইন্ডিয়ান- বাংলা-ইংলিশ নয়। একেবারে ন্যাটিব আমেরিকান। জাপানিজরা আমেরিকা কে অনুসরণ করে। দস্তুর মত। আমেরিকা আটম বোমা ফাটিয়ে নাগাসাকি  ও হিরোসীমা তে অনেক জাপানিজ কে হত্যা করেছিল সেটা মনে হয় তারা ভুলে গেছে। তবে জাপানিজরা মনে করে ইউএসএ বোমা ফাটিয়ে ভালই করছিল, অন্তত দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ থেমেছিল।

যাই হোক, পথ চিনতে একটু ভুল হত। মনে থাকত না কোন পথে এসেছিলাম। এক মাত্র ভরসা পথে, পথ হারিয়ে গেলে, বা সময় বাঁচানোর জন্য তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য। কাউকে জিজ্ঞাসা করা। আর যায় কোথায়? মনে হল, কি একটা কিছু জিজ্ঞাসা করেছি। হাতে থাকা স্মার্ট ফোন, সাথে সাথে বের করে কোন দিকে যেতে হবে বিস্তর বর্ণনা। যদি তবুও না বুঝি!! তাখন এক সাথে গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছে দিত। বেশ মজা লাগত। জাপানে পথ হারাতে মন চাইত।

একবার, আমি আওবায়ামা সাইন্স কাম্পাস্ থেকে  নাগামাচি বাসায় ফিরবার সময় পথ হারালাম। মোট দূরত্ব ৬-৮ কিমি।  সাথে ছিল বাইসাইকেল। আমি পথ হারালেও  সাধারনত জিজ্ঞাসা করতে চাইতাম না। কারন আমি তো  এত ছোট নই যে আমাকে বাঘে খেয়ে ফেলবে। আর জাপানিজ ও একেবারই বুঝিনা। শুধু শুধু সময় নষ্ট। তাই মনে করতাম পথ তো একটা না একটা পাবই খুজে। সময় একটু বেশি লাগবে। হয়ত  ইউ-টারন করা লাগবে!!  তখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে। জাপানে এই বৃষ্টি  এই রোদ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা।  তাড়াতাড়ি  বাসায় যেতে হবে বৃষ্টিতে  পরিপূর্ণ  ভিজে যাওয়ার আগেই। আমি পথ হারালাম বুজতে পারছি। দেখি একটা মেয়ে  আসছে, বয়স আনুমানিক ১৮-২০ বছর। তাকে থামালাম, বললাম, সুমিমাসেন,  আই লস্ট মাই ওয়ে তো হোম। সে কিছু বুঝতে পারলনা, অনেক কষতে বোঝালাম যে আমি পথ হারিয়েছি। সে আমাকে তার স্মার্ট ফোন দেখিয়ে বলল ঐ দিকে। আমি ওটাও বুঝতে পারবনা বললে। সে বলল আমি যদি আপনার সাথে যায় তাহলে ওকে? আমি তাকে অনেক ধন্যবাদ দিলাম।আর সে ভিজতে ভিজতে আমার সাথে আমার বাসার রাস্তা পর্যন্ত আসল। আমি তাকে অনেক ধন্যবাদ দিলাম।

মূল কথা; জাপানে সাহায্যের কোন অভাব নাই। যদি পথ হারাই। কারও কাছে হেল্প চাইলে খুব কম মানুষ  ই আপনাকে ফিরিয়ে দেবে।  আমি জাপানে  নতুন । রাতে অনেক ভেবছিলাম কেন মেয়েটা ভিজতে ভিজতে এতোটা পথ আসল? পরে বুঝতে পেরেছিলাম জাপানিজ রা এমনই।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: