উচ্ছন্নে  যাওয়া সন্তানের মত আমরা সমাজকে অবজ্ঞা করছি

ইচ্ছনে যাওয়া সন্তান (সমাজ) ও তার প্রতি  অনাগ্রহযখন একটা শিশুর লালন পালনের জন্য পিতা মাতা চিন্তিত থাকে। তখন একটা  বিষয় সর্বদা পিতা মাতা ভাবে সেটা হল, তাদের এমন কোন আচরণ যেন সন্তান শিখে না ফেলে যার  জন্য   সন্তানের  ভবিষ্যত অমঙ্গলের হয়। আর এর জন্য সামান্য কোন খারাপ আচরণ পিতা মাতা সন্তানের সামনে করতে চায় না। কারন শিশুরা  শুনে ও দেখে বেশি শিখে। সন্তানের সামনে যদি একবার কোন ভুল আচরণ পিতা মাতা করে ফেলে সেটা সন্তান শিখে ফেলে। ভুলটাই শিখে। অর্থাৎ দ্বিতীয় বার আর সেই একই ভুল আচরণ সন্তানের সামনে করতে পিতা মাতা  ভয় পায় না। কারন সন্তান ইতি মধ্যে ভুলটা শিখে গিয়েছে। এটা পিতা মাতার জন্য সন্তান লালন পালনে চরম ব্যর্থতা।  এজন্য পিতা মাতাকে সর্বদা সচেতন থাকতে হয়। যেমন, সঠিক ভাবে সকালে দাঁত ব্রাস করার অভ্যাস, টুয়লেট বাবহার, সন্তানকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাস্ততার অজুহাতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা, মিথ্যা বলা ইত্যাদি। এভাবে একটা একটা করে সন্তান, পিতা মাতার সব গুলো বদ অভ্যাস রপ্ত করে ফেলে। সন্তান খারাপ হয়ে যায়। তখন পিতা মাতা নিজেকে দ্বায়ী না করে উলটা সন্তান কেই দোষ দেয়।

সন্তান লালন পালনে শাসন করতে হয়। শাসনের একটা সীমা রাখতে হয়। যে সীমা পর্যন্ত সন্তান পিতা মাতার শাসন মেনে চলে, যেমন, সন্তান ভুল করলে, একটু বড় বড় করে সন্তানের দিকে তাকান,  ইত্যাদি।  লঘু অপরাধে গুরু দন্ড দিলে শাসন কাজে আসে না। শাসনের সীমা কখনই পিতা মাতার অতিক্রম করা উচিত নয়। তাহলে  সন্তান অবাধ্য হয়ে যায়। যেমন, সকালে ব্রাশ না করে যদি কিছু খাবার মুখে দেয়,  তখন তাকে একটু বুঝিয়ে বা এটা আর দ্বিতীয় বার না করার কথা বললে শাসন  সীমার মধ্যে থাকে। কিন্তু এর জন্য সন্তানকে পিটুনি দেয়া শাসনের সীমা অতিক্রম। তবে  এর বিপরীতে, সন্তান যদি  একবার অবাধ্য হয়ে যায়, সেই সন্তানের প্রতি পিতা মাতার কোন শাসনের সীমা বা সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দেয়ার আগ্রহ পিতামাতা হারিয়ে ফেলে। এই রকম আবস্থা খুবই ভয়াবহ।

এখন আসি, মুল কথায়, সম্প্রতি, মাদ্রাসা ছাত্রী, নুসরাত কে যে ভাবে তার ই নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে  বলে খবর বেরিয়েছে। যদিও হাজার ঘটনার এটা একটি মাত্র ঘটনা।  তার কথা চিন্তা করতে গেলে  অনেক কিছু ভাবনায় আসে। যেমন,

১। মেয়েরা এখনও মেয়েই  থেকে গেল,  সমাজ তাদের মূল্যায়নে এখনও আদিম।  এই ধরনের ঘটনা, সমাজকে  বিশৃঙ্খল  করে দেয়। সমাজটা একটি সুতোয় একে অপরের সাথে বাধা আছে। একটা খসে পড়লে পুরো সমাজের শৃঙ্খলা নষ্ট হয়।  উচ্ছন্নে  যাওয়া সন্তানের মত আমরা সমাজকে অবজ্ঞা করছি, দ্বায়ীত্ব বোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।  কু কর্ম দিয়ে দেশ  পরিপূর্ণ করছি।এটা এমন মনে হয় যেন , ইচ্ছনে যাওয়া সন্তান (সমাজ) ও তার প্রতি  অনাগ্রহ।  একটা সমাজের, ভিত্তি হল, শিক্ষা। আর শিক্ষা মানুষকে মানুষ হতে শেখায়।  সবার শুভ  বুদ্ধি উদয় হোক।।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: