১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস এর বানী (নমুনা)

15 August national mourning day১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এ দিনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতির পিতার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পুত্র ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, দশ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৯ জন শাহাদত বরণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক সচিব কর্ণেল জামিলও নিহত হন। ঘাতকদের কামানের আঘাতে মোহাম্মদপুরে একটি পরিবারের বেশ কয়েকজন হতাহত হন। ( আমি বা আমরা) শোকাহত চিত্তে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। জাতীয় শোক দিবসে পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবনে একটিই ব্রত ছিল  বাংলা ও বাঙালির মুক্তির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, এই রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে আমরা বাঙালিরা নির্যাতিত-নিষ্পেষিত হব। তাই এ থেকে জনগণের মুক্তির জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন আন্দোলন-সংগ্রামের পথ। ১৯৪৮ এর ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্ম, ’৪৮ এর মার্চে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে আন্দোলন, ’৪৯ এর ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম, ’৫২ এর মহান ভাষা আন্দোলন, ’৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৬ এর শাসনতন্ত্রের জন্য আন্দোলন, ’৬২ এর ১৭ সেপ্টেম্বরের শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৩ এর রবীন্দ্র চর্চা আন্দোলন, ’৬৪ এর সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯ এর গণঅভ্যত্থান, ’৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়Ñ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধুর ছিল বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। বঙ্গবন্ধু বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। ফাঁসির মঞ্চেও তিনি বাংলা ও বাঙালির জয়গান গেয়েছেন।

জাতির পিতার দূরদর্শী, সাহসী ও ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃংখল ভেঙ্গে ছিনিয়ে এনেছে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। আমরা পেয়েছি স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন সমগ্র জাতিকে নিয়ে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতকচক্রের হাতে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে শহিদ হন। এ নৃশংস ঘটনা কেবল বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও বিরল। এ হত্যাকান্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে মুছে ফেলে পরাজিত শক্তিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল।

আগস্টের আরেকটি শোকাবহ দিন ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এদিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন; আহত হন পাঁচ শতাধিক। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একাত্তরের পরাজিত ঘাতক-স্বাধীনতাবিরোধী চক্র হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে অসম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে ভেঙে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে বার বার ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছে। কিন্তু পারেনি; বাংলাদেশের জনগণ ষড়যন্ত্রকারীদের সমস্ত প্রচেষ্টা বার বার ব্যর্থ করে দিয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে। অতীতের জঞ্জাল সরিয়ে দেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক নবদিগন্তের সূচনা হয়।  বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে ‘ভিশন ২০২১’ এবং ‘ভিশন ২০৪১’ ঘোষণা করেছেন। দৃঢ় বিশ্বাস ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে, ইনশা আল্লাহ।

ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। আসুন, জাতীয় শোক দিবসে আমরা জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করি। তাঁর ত্যাগ এবং তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ ধারণ করে সবাই মিলে প্রতিষ্ঠা করি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। জাতীয় শোক দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।


কৃতজ্ঞতা স্বীকার, সংগ্রহ ও পুন সম্পাদিত

ডঃ হারুন-অর-রশিদ

মান্ভনীয়  ভাইস চ্যাঞ্চেলর

প্টুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়

দুমকি। পটুয়াখলী, বাংলাদেশ।


 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Show Buttons
Hide Buttons
%d bloggers like this: